চলতি সপ্তাহে আনুষ্ঠানিক বাণিজ্য আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। যা হবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে শুরু হওয়া বাণিজ্যযুদ্ধের পর প্রথম উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক। এই বাণিজ্যযুদ্ধ বিশ্বব্যাপী আর্থিক বাজারগুলোকে নাড়া দিয়েছে সেই সঙ্গে সরবরাহ শৃঙ্খলা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে। খবর এফটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই সপ্তাহে জেনেভায় তাদের চীনা অংশীদারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। আর চীন জানিয়েছে, তাদের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন শীর্ষ অর্থনীতি বিষয়ক কর্মকর্তা ভাইস প্রিমিয়ার হি লিফেং। জানুয়ারিতে ট্রাম্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাইস প্রেসিডেন্ট হান জেং যোগ দেয়ার পর এটিই হবে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথম উচ্চ পর্যায়ের আলোচনা।
আগামী শনি ও রোববার দুই অংশীদারের সঙ্গে বৈঠক হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফক্স নিউজকে তিনি জানান, উচ্চ শুল্ক কোনো পক্ষের জন্যই টেকসই নয় বলে তাদের মধ্যে আলোচনার আগ্রহ রয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, এ আলোচনা কোনো বৃহৎ বাণিজ্য চুক্তি নয়, বরং উত্তেজনা কমানোর প্রাথমিক প্রচেষ্টা। এ বিষয়ে স্কট বেসেন্ট বলেন, ‘আমার ধারণা, এটি হবে উত্তেজনা প্রশমনের আলোচনা, বড় চুক্তির নয়’।
এই বৈঠক এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র চীনা পণ্যের ওপর ১৪৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। আর মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা ১২৫ শতাংশ শুল্ক বসিয়েছে চীন। এই পরিস্থিতিতে এ বৈঠককে প্রথম ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এশিয়া সোসাইটি পলিসি ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মার্কিন বাণিজ্য কর্মকর্তা ওয়েন্ডি কাটলার বলেন, ‘আমরা সবাই জানতাম যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে আলোচনায় বসতে হবে। তবে আজকের মুখোমুখি বৈঠকের খবর প্রত্যাশার চেয়ে বড়।’ সেই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘আশা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। কারণ একে অপরের ওপর শুল্ক বসানো অনেক সহজ, কিন্তু একসঙ্গে বসে সম্পর্ক স্থিতিশীল করার পরিকল্পনা করা অনেক কঠিন।’
বাণিজ্য আলোচনা প্রসঙ্গে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক অচলাবস্থার মধ্যে পড়েছিল। বৈঠক প্রসঙ্গে চীনা বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাম্প্রতিক সময়ে বারবার আলোচনার ইঙ্গিত ও সম্ভাব্য শুল্ক রেহাইয়ের বার্তা পেয়ে তারা আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বৈশ্বিক প্রত্যাশা, চীনের নিজস্ব স্বার্থ সেই সঙ্গে মার্কিন ব্যবসা ও ভোক্তাদের আহ্বানের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবেচনার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় রাজি হয়েছে তারা। তবে আলোচনাকে চাপ বা ব্ল্যাকমেইলের অজুহাত হিসাবে ব্যবহার না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি চিপস, ইলেকট্রনিক্স, কাঠ, তামা, ওষুধ এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ আরো কিছু খাতে শুল্ক আরোপের ইঙ্গিত দিয়েছে। এমনকি বিদেশী সিনেমার ওপরও শুল্ক বসানোর হুমকি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।